মায়ের ত্বকের সাথে নবজাতক শিশুর ত্বকের স্পর্শের ৫টি প্রধান সুবিধা

 

শিশুরা সর্বদাই মায়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ট হয়ে থাকে।গর্ভাবস্থায় শিশুরা তাদের মায়ের যতটা ঘনিষ্ঠ হয়ে থাকে প্রসবের পরেও তারা চায় মায়ের শরীর থেকে উষ্ণতা পেতে। তাই মায়ের ত্বকের সাথে শিশুর ত্বক স্পর্শ শিশুর গর্ভের বাইরের জীবনের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে এবং মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে এবং তাদের শিশুর সাথে ঘনিষ্ঠ, প্রেমময় সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই যখনই সম্ভব, মা এবং শিশুর জন্মের পর অন্তত প্রথম ১ থেকে ২ ঘন্টা সরাসরি শিশুকে মায়ের সংস্পর্শে করা উচিত। এতে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হৃদস্পন্দন স্থিতিশীল হয়।

তাই আজকে আমরা জানবো মায়ের ত্বকের সাথে নবজাতক শিশুর ত্বকের স্পর্শের ৫টি প্রধান সুবিধা:

১ . শিশুর হার্ট এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত করে  - শিশুরা জন্মের পর বাইরে তাদের প্রথম শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে নিজেকে প্রস্তুত করে। তবে মায়েদের ত্বকের সাথে শিশুর ত্বক ধরে রাখা হলে  আগের তুলনায় তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারে। এতে করে শিশুর হার্ট এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার স্বাভাবিক এবং আরও স্থিতিশীল থাকে। 

২. শরীরের তাপমাত্রার স্থিতিশীল রাখে  - গর্ভাবস্থায় শিশু মায়ের পেটে স্বাভাবিক তা[মাত্রায় থাকে। তবে জন্মের পরে, শিশুরা নিজের শরীরের তাপমাত্রার সাথে সামঞ্জস্য রাখতে পারে না। আর একটি দুর্বল নবজাতককে উষ্ণ রাখার জন্য একজন মায়ের শরীর কৃত্রিম উষ্ণতার চেয়ে ভালো। একটি জরিপে দেখা গিয়েছে মায়ের দ্বারা প্রদত্ত ত্বক থেকে ত্বকের যত্ন এবং পিতার দ্বারা প্রদত্ত ত্বক থেকে ত্বকের যত্ন কৃত্রিম উষ্ণতার চেয়ে অনেক উপকারী।

৩. শিশুকে প্রশান্ত করে - শিশুরা মায়ের কোলেই এলেই শান্ত হয়ে যায়। মায়ের সাথে থাকার স্বাচ্ছন্দ্য কিংবা মায়ের ত্বকের স্পর্শ শিশুদের জন্মের পরের কান্না অনেক কমায়। শিশুরা তখন সুরক্ষিত বোধ করে। এতে করে শিশু শান্ত হয় এবং আরাম বোধ করে।

৪ .সহজে বুকের দুধ খাওয়ানো - নবজাতকদের জন্মের পরপরই যখন তাদের মায়ের বুকে রাখা হয় তখন অনেকটাই আরাম বোধ করে। এতে করে শিশুরা আস্তে আস্তে মায়ের বুকের দুধ খাওয়া শিখে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে শিশুরা প্রচুর পরিমাণে মায়ের ত্বকের স্পর্শ পায় তারা সহজেই দুধ খাওয়া শিখে যায়। এছাড়া মায়ের বুকে শিশুকে শুইয়ে রাখলে মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন নামক হরমোন নিঃসরণ হয়, যা বুকের দুধ উৎপাদন বাড়ায় এবং জরায়ু সংকোচনে সাহায্য করে।

৫. মাতৃদুশ্চিন্তা কমায় - মায়ের সাথে শিশুর বন্ধন থাকে সবচেয়ে গভীর। আর গবেষণায় দেখা গেছে মায়ের ত্বকের সাথে শিশুর ত্বকের স্পর্শ শিশুকে যেমন প্রশান্তি দেয় ঠিক তেমনি মায়ের দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ কমায়। পাশাপাশি প্রসবোত্তর বিষন্নতা এবং তীব্রতা কমায়। শিশুর সাথে ত্বকের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে মা ও শিশুর বন্দন গভীর করে এবং মাতৃ আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং সেইসাথে শিশুদের বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার অনুভূতি বিকাশে সহায়তা করে।

ত্বক থেকে ত্বকের যোগাযোগ শুধুমাত্র নবজাতকের জন্য নয়। জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসে আপনি যখনই পারেন আপনার শিশুকে আপনার স্পর্শে ধরে রাখার চেষ্টা করুন। এটি আপনার এবং শিশুর একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধন গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ করে তুলবে। আপনার শিশু আপনার শরীরের উষ্ণতা, আপনার হৃদস্পন্দনের অনুভূতি এবং আপনার কণ্ঠের শব্দ এবং কম্পন দ্বারা প্রশান্তি পাবে।