ডিপ্রেশন ব্যাধিতে ভুগছেন?

ডিপ্রেশন ব্যাধিতে ভুগছেন?

ডিপ্রেশন একটি ভয়াবহ রোগ যা মানুষকে মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে প্রায় সব বয়সের মানুষই ডিপ্রেশনের শিকার হয়ে থাকে। বিশেষ করে এই সময় যখন করোনার ভয়াবহতা আমাদের গ্রাস করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ২৬৪ মিলিয়নের বেশি মানুষ এই ডিপ্রেশন ব্যাধিতে ভুগছেন এবং প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ডিপ্রেশনের কারণে প্রায় ৮ লক্ষ্য মানুষ আত্মহত্যা করে।(সূত্রঃ who)

মানুষ মাঝে মাঝে বিভিন্ন সময় এবং বিভিন্ন কারণে ডিপ্রেশনে ভুগে। সঠিক সময় চিকিৎসা না করলে এর ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

ডিপ্রেশন কেনো হয়?

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণরা ডিপ্রেশনে বেশি ভুগে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে নানারকম সামাজিক এবং পারিবারিক সমস্যা। এছাড়া অর্থনৈতিক অবস্থাও ডিপ্রেশনের জন্য দায়ী। এছাড়াও অন্যান্য যেসব কারণে ডিপ্রেশন হতে পারে চলুন সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই-

  • ডিপ্রেশন হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে জেনেটিক কারণ। পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ডিপ্রেশন থাকলে এই রোগ হতে পারে
  • যারা সবসময় হীনমন্যতায় ভুগে থাকেন তাদের মধ্যে ডিপ্রেশনের সমস্যা প্রবল
  • যেসব শিশু ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক অশান্তি বা পিতামাতার মধ্যে ঝগড়া দেখে বড় হয় তাদের মধ্যে পরবর্তীতে ডিপ্রেশনের পরিমাণ বেশি দেখা যায়
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলেও তা একসময় ডিপ্রেশনের দিকে ঠেলে দেয়
  • দাম্পত্য জীবনে অশান্তি, কর্মস্থলে সমস্যা বা একাকীত্বের কারণেও ডিপ্রেশন হয়ে থাকে
  • এছাড়া, ব্যক্তিগত সমস্যা, অসুস্থতা, প্রেমঘটিত সমস্যা, লেখাপড়া নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা এরকম আরো অনেক সমস্যার জন্য ডিপ্রেশন হতে পারে

 

ডিপ্রেশনের লক্ষণ

কেও ডিপ্রেশনে আছে কিনা তা বুঝার জন্য কিছু লক্ষণ রয়েছে। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে কেও ডিপ্রেশনে আছে তা বলা যাবেনা। যদি লক্ষণগুলো দুই সপ্তাহ বা তার চাইতে দীর্ঘ সময় ধরে দেখা যায় তাহলে একজন ব্যাক্তি ডিপ্রেশনে আছেন বলে ধরে নেয়া যায়। লক্ষণগুলো হচ্ছে-

*জীবনের প্রতি ঘৃণা বা উদাসীনতা কাজ করা

* অল্পতেই টেম্পার লুস করা বা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা

* অহেতুক চিন্তা ও উত্তেজনা, একটুতেই ঘাবড়ে যাওয়া, একটুতেই ভেঙে পড়া

* কাজ করার ইচ্ছা না হওয়া এবং অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে যাওয়া

* অনিয়মিত ঘুম

* হরমোনের পরিবর্তন হতে থাকলে ডিপ্রেশন আসে। বয়ঃসন্ধিকালে এই ধরনের অবস্থা লক্ষ করা যায়।

* মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া। কোন কিছুতে অল্পতেই রেগে যাওয়া

* আত্মহত্যা করার চেষ্টা করা। আত্মহত্যা একটি  মানসিক ব্যাধি যা ডিপ্রেশন থেকে জন্ম নেয়। ডিপ্রেশনের শেষ অবস্থায় পৌঁছালেই আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত হয়।

ডিপ্রেশন কখন হতে পারে?

ডিপ্রেশন যেকোনো বয়সে হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ১৮-২৫ বছর পর্যন্ত মানুষ সবচাইতে বেশি ডিপ্রেশনে ভুগে। কারণ এ সময় আমাদের মধ্যে ভুল করার প্রবনতা বেশি থাকে এবং আমরা খুব দ্রুত হতাশ হয়ে পড়ি। এছাড়াও যেকোনো বয়সেই ছেলেমেয়ে, ছাত্রছাত্রী, শিশু থেকে বয়স্ক সবাই ডিপ্রেশনের শিকার হতে পারে।

প্রতিকারের উপায়

ডিপ্রেশন যেহেতু মানসিক রোগ, তাই এই রোগের চিকিৎসার জন্য নিজেকেই সচেষ্ট থাকতে হবে। ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠার প্রধান উপায় হচ্ছে চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন। অহেতুক চিন্তা, নেতিবাচক চিন্তা ইত্যাদি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া ডিপ্রেশনের জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আবস্থা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মত স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি সবসময় ইতিবাচক থাকতে হবে কারণ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই পারে জীবন বদলে দিতে।

সূত্রঃ ইন্টারনেট

Leave A Reply